নাতির হামলায় বৃদ্ধার মৃত্যু, পুলিশকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে দাফন

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানার আউচপাড়া এলাকায় নাতির হামলায় শাহিদা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি সংঘটিত হওয়ার পর পুলিশকে অবহিত না করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দ্রুত মরদেহ দাফন করা হয়েছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত কিশোর ও তার বাবাকে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের আওচপাড়া এলাকার সালামত মোল্লা রোডের আর বি টাওয়ার সংলগ্ন অ্যাডভোকেট সেলিম মিয়ার সাততলা ভবনের একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহিদা বেগম ওই এলাকার মৃত মোমেন উল্লাহর স্ত্রী।
প্রাথমিক তথ্যমতে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মো. রাইয়ান আহমেদ (১৩), যাকে পরিবারের সদস্যরা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে (এএসডি) আক্রান্ত বলে দাবি করেছেন, প্রথমে তার মাকে আঘাতের চেষ্টা করে। পরে দাদি শাহিদা বেগম তাকে শাসন করলে রান্নাঘরে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বুকে ও মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় শাহিদা বেগমকে প্রথমে চেরাগআলীর ইম্পেরিয়াল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরা কামারপাড়া চায়না শিপইয়ার্ড হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশকে অবহিত না করে রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে চেরাগআলী কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয় বলে জানা গেছে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন সম্পন্ন করায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত কিশোর রাইয়ান আহমেদ এবং তার বাবা আহম্মেদ রুবেল খানকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, রুবেল খান একটি বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান লাভিভ গ্রুপের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গোয়েন্দা সূত্র ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নিহত শাহিদা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক অবহেলার শিকার ছিলেন। পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধ, বৃদ্ধার প্রতি অসদাচরণ এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আমরা বিষয়টির সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। পুলিশকে অবহিত না করে মরদেহ দাফনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে থানায় আনা হয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত

