বিদেশে পালিয়ে যাওয়া গোষ্ঠী জুলাই বিপ্লবকে কলঙ্কিত করতে সক্রিয় : সাদিক কায়েম

| আপডেট :  19 July 2026, 05:17  | প্রকাশিত :  19 July 2026, 05:17

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেছেন, ‘স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া একটি গোষ্ঠী বিদেশে বসে আত্মসাৎ করা অর্থ ব্যবহার করে জুলাই বিপ্লবকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা পরিকল্পিতভাবে জুলাইয়ের বীরদের ভিলেন হিসেবে উপস্থাপন করতে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

রোববার (১৯ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘দ্বিতীয় জুলাই বিপ্লব আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (আইসিজেআর-২ ২০২৬)’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), রিসার্চ অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড থটস (আরআইটি), ইউনিভার্সিটি অব রেজিনা (কানাডা), নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি (সিঙ্গাপুর) এবং ইয়ুথ ফর বেটার ফিউচার সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সাদিক কায়েম বলেন, ‘যারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তারা মনে করছেন এভাবে মানুষকে অতীতের ঘটনাগুলো ভুলিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু গত দেড় দশকে সংঘটিত হত্যা, গুম, মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের স্মৃতি দেশের মানুষ কখনো ভুলবে না।’

ডাকসু ভিপি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে একটি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা মানুষের কণ্ঠরোধ করেছে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করেছে। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ নানা অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ থেকেই জুলাই বিপ্লবের জন্ম।’

তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল নিপীড়ন, কর্তৃত্ববাদ ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম। ১৯৭১ সালে যেমন স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জাতি লড়াই করেছিল, তেমনি অধিকার হুমকির মুখে পড়লে বাংলাদেশ আবারও জেগে উঠেছে। সে অর্থে জুলাই বিপ্লব দেশের দীর্ঘ জাতীয় সংগ্রামেরই ধারাবাহিকতা।’

সাদিক কায়েম বলেন, ‘এ আন্দোলনে সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রিকশাচালক, শ্রমিক, কৃষক, ব্যবসায়ী, শিল্পী, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন। তাই জুলাই কোনো নির্দিষ্ট দল, সংগঠন বা ব্যক্তির আন্দোলন নয়; এটি ছিল সমগ্র জনগণের বিপ্লব।’

তিনি বলেন, ‘একটি বিপ্লবের পর সব প্রত্যাশা রাতারাতি পূরণ হয় না। ফলে মানুষের কিছু হতাশা থাকতেই পারে। তবে সেই হতাশা জুলাই বিপ্লবের গুরুত্বকে খাটো করে না। জুলাই ছিল মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলন নয়; এটি ন্যায়বিচার, সংস্কার ও জাতীয় পুনর্গঠনের দীর্ঘ যাত্রার সূচনা।’

একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, ‘জুলাই সবার। এটি জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের প্রতীক। এখন বিভক্ত হওয়ার সময় নয়; বরং অর্জিত সাফল্য রক্ষা করে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের সময়।’

ডাকসু ভিপি বলেন, ‘পতিত স্বৈরাচার এবং তাদের সহযোগীরা আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসার চেষ্টা করছে। তবে জনগণের ত্যাগ, সাহস ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সাফল্য কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। জুলাইয়ের চেতনা ঐক্য, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং কর্তৃত্ববাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা হয়ে থাকবে।’

একই সঙ্গে জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে বাস্তব কাজের মাধ্যমে সম্মান জানিয়ে একটি মুক্ত, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত